উৎসব

পহেলা ফাল্গুন উক্তি, মেসেজ, শুভেচ্ছা ও স্ট্যাটাস

পহেলা ফাল্গুন হচ্ছে ফাল্গুন মাসের 1 তারিখে বোঝানো হয় এবং প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের পয়লা ফাল্গুন পালন করা হয়ে থাকে। তবে এই বছর পহেলা ফাল্গুন এবং ভালোবাসা দিবস একই দিনে পালন করা হয়ে থাকবে। পহেলা ফাল্গুন বাঙালিতে জীবনে একটি ঐতিহ্য পূর্ণদিবস যা বাঙালিরা আনন্দের সাথে পালন করে এবং বিভিন্ন শাক শয্যা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অতিবাহিত করে থাকেন।

এজন্য পয়লা ফাল্গুন উপলক্ষে অনেকেই পহেলা ফাল্গুনের শুভেচ্ছা, উক্তি, স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন খুঁজেন যাতে পহেলা ফাল্গুন কে আনন্দ দেওয়ার জন্য শেয়ার করতে পারেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে পচা উপভোগ করেন। আসুন বন্ধুরা নিম্নে আমরা পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে রোমান্টিকও আপডেট শুভেচ্ছা উক্তি স্ট্যাটাস ক্যাপশন আপনাদের জন্ম সংগ্রহ করেছি যা এখান থেকে সংগ্রহ করে পহেলা ফাল্গুন দিবসকে পালনে মজা উপভোগ করতে পারবেন.

আরো পড়ুনপহেলা ফাল্গুন ২০২২ কবে হবে?

পহেলা ফাল্গুন 2022

ফাল্গুন মাসের প্রথম তারিখে পহেলা ফাল্গুন উৎসব পালন করা হয়ে থাকে এবং ফাল্গুনের হাওয়া বইতে থাকে। পহেলা ফাল্গুন উদযাপনের সবাই ব্যস্ত থাকেন কারণ এই দিনটি বছরে 1 বার আসে এবং ফাল্গুন মাসের প্রথম তারিখে বসন্ত দোলা দেয় গাছে গাছে কোকিল ডাকে তাই এই দিনটিকে সবাই উপভোগ করতে ব্যস্ত থাকেন।

আরো পড়ুন : পহেলা ফাল্গুন এইচডি ছবি, পিকচার, ওয়ালপেপার, ইমেজ ডাউনলোড

পহেলা ফাল্গুনের উক্তি

পহেলা ফাল্গুনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় উক্তি রয়েছে যা জ্ঞানীগুণী ও স্মরণীয় ব্যক্তিরা প্রদান করেছেন। পহেলা ফাল্গুন সম্পর্কে এসকল উক্তি পহেলা ফাল্গুনের গুরুত্বকে বহন করে এবং পহেলা ফাল্গুন কে অনেক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এজন্য আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে পহেলা ফাল্গুন কে জাঁকজমকভাবেই পালন করার চেষ্টা করে এবং ঐতিহ্যকে ধরে রাখি। আসুন পহেলা ফাল্গুনের বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি গুলো শিখুন এবং অপরকে শেখার সুযোগ করে দিন

ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দানঃ তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দানঃ আমার আপনহারা প্রাণ; আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফাগুনের নবীন আনন্দে গানখানি গাঁথিলাম ছন্দে; দিল তারে বনবীথি কোকিলের কলগীতি, ভরি দিল বকুলের গন্ধে

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল , ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল । চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায় , বেণুবনে মর্মরে দক্ষিণবায়

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্পন্দিত নদীজল ঝিলিমিলি করে , জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি বালুকার চরে । নৌকা ডাঙায় বাঁধা , কাণ্ডারী জাগে , পূর্ণিমারাত্রির মত্ততা লাগে

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খেয়াঘাটে ওঠে গান অশ্বথতলে , পান্থ বাজায়ে বাঁশি আন্মনে চলে । ধায় সে বংশীরব বহুদূর গাঁয় , জনহীন প্রান্তর পার হয়ে যায়

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দূরে কোন্ শয্যায় একা কোন্ ছেলে বংশীর ধ্বনি শুনে

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রেমের আনন্দ থাকে স্বল্পক্ষণ কিন্তু বেদনা থাকে সারাটি জীবন

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ফাগুনের রঙে রেঙেছো তুমি, না বলা কথা আজ বলবো আমিঃ হৃদয়ের ডাক শুনবে কি তুমি?

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত

- সুভাষ মুখোপাধ্যায়
বিহুরে লগন মধুরে লগন, অকাশে বাতাসে লাগিল রে চম্পা ফুটিছে চামলী ফুটিছে, তার সুবাসে ময়না আমার ভাসিল রে

আমাকে পাবে না খুঁজে, কেঁদে কেটে মামুলি ফাল্গুনে

- হেলাল হাফিজ
বসন্ত এলো এলো এলোরে পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহুরে মুহু মুহু কুহু কুহু তানে মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে ভ্রমর গুঞ্জে গুঞ্জে গুনগুন গানে

- কাজী নজরুল ইসলাম
হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্রসঙ্গীতে যত আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা, দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক

- নির্মলেন্দু গুণ
- ফররুখ আহমেদকঝাক পাখি এসে ঐকতানে , গান গায় এক সাথে ভোর বিহনে, অচানক দুনিয়াটা আজব লাগে, আড়মোড়া দিয়ে সব গাছেরা জাগে, লাল নয় কালো নয় সবুজ পাতা, জেগে ওঠে একরাশ সবুজ পাতা
হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?

- সুফিয়া কামাল

কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- দখিন দুয়ার গেছে খুলি? বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল? দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?

- সুফিয়া কামাল

এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?

- সুফিয়া কামাল

পহেলা ফাল্গুন এসএমএস

পহেলা ফাল্গুনের কিছু রোমান্টিক এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে মেজর আইসি চাপালা ফাল্গুন উপলক্ষে আপনি শেয়ার করতে পারবেন। এসএমএস গুলো পড়তে এবং অপরকে শেয়ার করতে খুবই ভালো লাগে। তাহলে আমরা পহেলা ফাল্গুনের কিছু আপডেট ও মজাদার এসএমএস এখান থেকে সংগ্রহ করতে পারব.

সহি কি করে

সখি রে ~~ সখি রে ~~

বল না তারে ~~

মন মাতানো মহুয়া রঙ্গীন

এ শীতল হাওয়ায়

গানের সুরে নাচের তালে

কোন আকাশে যায়।

মন হারিয়ে যায় ও মোর

মন হারিয়ে যায়।।

ভালবাসার এই অপেক্ষা

সহি কি করে

সখি রে ~~ সখি রে ~~

বল না তারে ~~


আগুন ঝরা ফাগুন বাতাস

সহি কি করে

সখি রে ~~ সখি রে ~~

বল না তারে ~~

মন মাতানো মহুয়া রঙ্গীন

এ শীতল হাওয়ায়

গানের সুরে নাচের তালে

কোন আকাশে যায়।

মন হারিয়ে যায় ও মোর

মন হারিয়ে যায়।।

 

মিঠে মিঠে বাতাসের দোল

বসন্তের এসএমএস বসন্ত মাস ভালোবাসায় ভরপুর

তুমি আর আমি ঘুরবো সারা দুপুর

বসন্তের ফুল গুঁজে দেবো তোমার খোঁপায়

ভালোবাসার এটাই তো সেরা সময় ।

কত বসন্ত আসে

কত বসন্ত যায়

কত কোকিল পথ হারিয়ে

কণ্ঠ থেমে যায় অবলীলায়

শুধু আমি কোথাও যেতে পারলাম না

তোমাকে ছেড়ে কোথাও না ।

দেখো বসন্তের বাতাস বইছে আজি

এসো বসন্তের রঙে সাজি,

আজ ঘুরে ফিরে চাইছে না যে

আমার এ মনের মাঝি ।

হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র সংগীতে যত আছে

হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস সুরে

হয়তো কুসুম কলি ঘিরে

আকাশে মেলিয়া আখি

তবুও ফুটেছে জবা, দুরন্ত শিমুল গাছে

তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক ।

গাছে গাছে নতুন পাতা..

ফুল ফুটছে বেস।

সব পাখির মন খারাপ..

শীতের হলো শেষ।

নতুন রুপে,নতুন সাজে..

নিভাবে মনের আগুন।

তাইতো আজ প্রকৃতি জুড়ে।।

বসন্তের ফাগুন।

 

বসন্তের কবিতা

আমার বসন্ত – নির্মলেন্দু গুণ

এ না হলে বসন্ত কিসের? দোলা চাই অভ্যন্তরে,
মনের ভিতর জুড়ে আরো এক মনের মর্মর,
পাতা ঝরা, স্বচক্ষে স্বকর্ণে দেখা চাঁদ, জ্যোৎস্নাময়
রাতের উল্লাসে কালো বিষ । এ না হলে বসন্ত কিসের ?

গাছের জরায়ু ছিঁড়ে বেরিয়েছে অপিচ্ছিল বোধ,
ওর মুখে কুমারীর খুন, প্রসূতির প্রসন্ন প্রসূন ।
কন্ঠ ভরে করি পান পরিপূর্ণ সে-পাত্র বিষের,
চাই পূর্ণ শিশিরে নির্ঘুম । এ না হলে বসন্ত কিসের?

 

থেকো, বসন্তসন্ধ্যায়… – সুব্রত পাল

দি বসন্ত পলাশ খোঁজে, খুঁজুক। তুমি খুঁজো না
রাঙামাটির পথে হাঁটতে ইচ্ছে করলে, হেঁটো না
শুধু আমাকে খুঁজো

আমি তো দুরন্ত ফাল্গুন গোটা গায়ে মেখে
তোমার জন্য বসে আছি
মনে মনে মাদল বাজাচ্ছি আর
গোধূলির রঙ দেখছি দিগন্তে

যদি বসন্ত তোমাকে ডাকে, ডাকুক। তুমি যেয়ো না
আঙুল ছুঁতে ইচ্ছে করলে, ছুঁয়ো না। কথা বোলো না
শুধু আমাকে ছুঁয়ো

আমি তো পাতায় পাতায় লুকিয়ে রেখেছি
সব ঢেউ, দ্বীপ, দ্বীপপুঞ্জ

গহন অরণ্য হয়েছি
কুয়াশায় সেজেছি কখনো

তবু যদি বসন্ত আসে তোমার কৃষ্ণচূড়া ডালে
আর কোকিল ডাকে, তবে অপেক্ষা কোরো।
আমি আবির নিয়ে আসছি, থেকো…

নিজেকে দেখাতে গিয়ে শুধু তোমাকেই দেখছি

এই বসন্তসন্ধ্যায়

সমস্ত আড়াল, অভিমান, সমস্ত সীমারেখা
উপেক্ষা করে আজ তোমারই সামনে এসেছি

এই আনমনা মন, মনের ভেতর তরঙ্গ
এই ভ্রূভঙ্গি, এই ঠোঁটের উচ্চারণ
সব যদি আলাদা মনে হয়
এসো, তাহলে স্পর্শে বুঝি দুরন্ত অস্থিরতা

এসো, ক্রমাগত আঁকড়ে ধরি
আর ক্রমাগতই বাঁচার চেষ্টা করি

হে আমার কাঙ্খিত প্রেম
আগে তো বলো নি কখনো
ভালোবাসায় এত কষ্ট থাকে
এত আলোড়ন, এত নিঃসঙ্গতা

কখনো কিছু তো বুঝে নিও
কিছু অনুচ্চারিত শব্দ, কিছু সমুদ্র ফেনায়
ছিটেফোঁটা যন্ত্রণা, বুঝে নিও

আজ পূর্ণিমা নাকি অমাবস্যা
আকাশে চাঁদ আছে কি নেই, কিচ্ছু জানি না আমি
শুধু বসন্ত জানি আর জানি তোমাকে
তাই তো তোমারই সামনে এসেছি
তোমাকেই দেখছি
দেখছি ভরসার মত করে, কান্নার মত করে
স্পর্ধার মত করে, ইচ্ছের মত করে
শুধু তোমাকেই দেখছি

অথচ আমি নিজেকেই দেখাতে এসেছিলাম

এই বসন্তসন্ধ্যায়।

 

একা – বীথি চট্টোপাধ্যায়

আমার চোখে বসন্ত দারুণ চৈত্রমাস
চতুর্দিকে শিমূল-পলাশ কৃষ্ণচূড়ার ত্রাস।

ঝড় উঠেছে নিখুঁত কালো বৃষ্টি ভেজা রাত
আঁচল দিয়ে দুঃখ ঢাকি কোথায় তোমার হাত ?

তব্ধ যদি ভালোবাসা প্রেমের-কম্পন
ফিরিয়ে দাও কিশোরীকাল প্রথম চুম্বন।

ভালোবাসার আগুন ঝড়ে চাইনি কোনো দাম
অশ্রুবিহীন চক্ষু হল প্রেমের পরিণাম।

এই সময়েই ভিন্ন হলে এমন চৈত্রমাস
ভালোবাসার ফুটছে কলি, ফাল্গুন বাতাস!

এই যে চোখ এই যে প্রেম, এই যে হা-হুতাশ
এই বসন্তে দেবো কাকে প্রেমের আস্বাস ?

আমার চোখে বসন্ত দারুণ চৈত্রমাস
ভালোবাসা বাসার পরে, ভাঙলে বিশ্বাস!

আমার শহরঃ বসন্তের প্রেম – প্রদীপ বালা
by কবিতা ককটেল1 Commentনতুন কবি
বসন্ত তবে এসেই গেল, বুঝলে ভায়া!
একটা কুকুর শুঁকছে আমার পায়ের ধুলো
চমকে উঠে পেছনে দেখি, কি বেহায়া!
আমার হাতে আধখানা রোল, ঝুলছে নুলো

ছ’টা পঁচিশ, পেটে তখন ছুঁচোর সেকি লাফ
বসন্ত যদি এসেই থাকে তোর বাপের কি
ছুটছে সবাই বাস ধরবে ট্রেন ধরবে
উল্টোডাঙ্গার মোড়ে শুধু আমি একাকী…

কী আর হবে বসন্ত এলে,ভিক্টোরিয়া
ময়দান আর পার্কে শুধু ভীড় বাড়বে
শীতে দেখিয়ে খেত সবাই,এখন মুখ লুকোবে
ছাতার তলায়। আমারও সময়,বাস ছাড়বে।

ছিল না কি বসন্ত আমারও,একটা দুটো…
ছাতার তলায় ঘন হয়ে বসে পৃথিবীতে মুখ
উত্তাপে আর উত্তাপে তোর বুকে
ঘাম আর ঘ্রাণের ভেতর খুঁজিনি প্রেমের সুখ ?

তবুও তো প্রেম এলো না,তার বদলে
একতাল মাংস এল উঠে,চিকেন কষা
কপাৎ করে গিলে ফেলে দেখি তোকে
কোমরে বেশ মেদ জমেছে,বাসের সীটে বসা।

ধুস শালা! বাস ছুটে যায় ধুলোর বেগে
হাজার হাজার ধুলো তখন প্রেমের খেলা
খেলতে থাকে, হাতে হাত রেখে সবাই
পার হয়ে যায় রাস্তা ঘাটএই বেলা

আমিই শুধু দাঁড়িয়ে থাকি, ভীড়ের ভেতর
ছুটোছুটি যন্ত্রমানব,বসন্ত এসে গেছে
সময় এসে লাথ মারে পেছনে, “ভাগ শালা
সময় নেই প্রেম মারাতে গেছে!”

হটাত করেই বাসটা এসে গেল
আমারও তখন ঘরে ফেরার তাড়া
বাসের ধোঁয়ায় উড়িয়ে নিয়ে গেল
তোমার আমার চোখের ইশারা

সে ইশারার একটুখানি রেশ বুকের ভেতর
সযত্নে রাখি, হটাত হটাত ঠোকর মেরে ফেরে
বাসে উঠে বসন্তকে পেছনে ফেলে দেখি
আধখানা প্রেম ঝুলে আছে উল্টোডাঙ্গার মোড়ে!

Related Articles

Back to top button